MezDhoni
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থার মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়, সরবরাহ টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনীতি সচল রাখতে বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ব্যবহারকারীর দেওয়া লেখায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ সরকারি ছুটি, বাসা থেকে কাজ, জ্বালানি রেশনিং এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম সীমিত করার মতো ব্যবস্থা নিয়েছে। কোথাও স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে, কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অতি জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মীদের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পেট্রল দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসও কর্মঘণ্টা কমানো, অফিসে উপস্থিতি সীমিত করা, গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ এবং রেশনিংয়ের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। মিসরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ ও সরকারি ভবন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশেও মজুত সুরক্ষা ও আতঙ্কিত কেনাকাটা ঠেকাতে সীমিত বরাদ্দ, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রয়কোটা চালুর কথা বলা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড আবার ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সপ্তাহে এক দিন বন্ধ রাখার পুরোনো নীতি ফেরানোর কথা ভাবছে।
লেখাটির শেষাংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরুর দাবি করেছেন এবং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি নাকচ করে বলেছে, এমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
বিশেষ প্রতিবেদন / ফিচার সংস্করণ:
বিশ্বজুড়ে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু তেল আমদানিকারক দেশগুলোর হিসাবের খাতায় পড়ে না, সরাসরি গিয়ে লাগে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ব্যবহারকারীর দেওয়া লেখায় সেই চিত্রই উঠে এসেছে—কোথাও স্কুল বন্ধ, কোথাও অফিসে কম উপস্থিতি, কোথাও আবার ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি মাপা বিক্রি।
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। লেখাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশ আর শুধু বাজারদর দেখছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ধরে রাখতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও বাড়াচ্ছে।
যেসব দেশে সরাসরি কড়াকড়ি
শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস—এই দেশগুলোতে সংকট মোকাবিলায় কর্মদিবস কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, রেশনিং, পাম্প বন্ধ রাখা বা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কিউআর কোডভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ, কোথাও আবার গাড়ির নম্বরভিত্তিক জোড়-বিজোড় পদ্ধতিও চালু হয়েছে।
সাশ্রয় থেকে নিয়ন্ত্রণে
মিসরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাতের মধ্যে দোকানপাট ও সরকারি ভবন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ায় জ্বালানি মজুত ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রিত বরাদ্দ, বিক্রি সীমা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ আছে।
নীতিগত সতর্কতায় নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডে ১৯৭৯ সালের ‘গাড়িমুক্ত দিবস’ নীতি ফের বিবেচনায় আনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি মজুত পর্যবেক্ষণে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ জারি এবং উচ্চ মূল্যের কারণে কিছু ফ্লাইট বাতিলের কথাও লেখা হয়েছে।
ওয়াশিংটন-তেহরান বাকযুদ্ধ
লেখার শেষাংশে পরিস্থিতির কূটনৈতিক মাত্রাও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। ফলে উত্তেজনা কমছে, নাকি কৌশলগত অবস্থান বদলাচ্ছে—সেই প্রশ্ন এখনো খোলা রয়ে গেছে।
যা জানা যাচ্ছে
ব্যবহারকারীর পেস্ট করা লেখায় একাধিক দেশের গৃহীত জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের বর্ণনা আছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থাকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
যা এখনো পরিষ্কার নয়
এই ব্যবস্থাগুলো ঠিক কবে থেকে কার্যকর হয়েছে, কতদিন চলবে, এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ কতটা দীর্ঘমেয়াদি চাপে পড়বে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া নেই। পৃথক দেশগুলোর সরকারি ঘোষণার তারিখও উল্লেখ নেই।
এমডি রহমান
ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com