MezDhoni
আদমদীঘি উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনে তীব্র অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে, আর ভোগান্তি বাড়ছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে সান্তাহার পৌর শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সেখানে অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেল ও পেট্রলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন চালকেরা। বিশেষ করে যেসব মোটরসাইকেলচালকের অকটেন প্রয়োজন, তাদের বাধ্য হয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক আশরাফুল ইসলাম হৃদয় বলেন, তার মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন দরকার হলেও না পেয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে। সেটিও নিতে রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে চারটি স্টেশনেই অকটেনের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে গেছে, আর ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
আদমদীঘি উপজেলার মুরইল এলাকার জয় ফিলিং স্টেশন, সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোডের আশা ফিলিং স্টেশন, পৌর শহরের আনিকা ফিলিং স্টেশন এবং বাইপাস মোড়ের হা-মিম ফিলিং স্টেশনে এই সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রল সরবরাহেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঈদ পরবর্তী সময়ে জ্বালানি স্টেশনে ভিড় বাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আদমদীঘিতে এবার ভোগান্তির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে অকটেন। চারটি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের কেউ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে পেট্রল নিচ্ছেন।
উপজেলার সান্তাহার পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় সোমবারের চিত্র ছিল একই রকম। তেল নিতে আসা মানুষের লাইন ছিল, কিন্তু অকটেন ছিল না। ফলে যাদের যানবাহন নিয়মিত অকটেনে চলে, তাদের চলাচলেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, শুধু বিকল্প জ্বালানি নেওয়ার বিষয় নয়, এতে যানবাহনের ইঞ্জিন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম হৃদয়ের মতো অনেকেই বলছেন, প্রয়োজন অকটেন হলেও সেটি না পেয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বাড়তি চাপও যুক্ত হয়েছে।
ফিলিং স্টেশন-সংশ্লিষ্টরা সংকটের পেছনে দুটি কারণের কথা বলেছেন। প্রথমত, ঈদ ঘিরে অকটেনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, ডিপো থেকে প্রয়োজনমতো সরবরাহ না পাওয়ায় মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে গেছে। এতে স্থানীয়ভাবে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
আদমদীঘির চারটি ফিলিং স্টেশনেই অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ডিজেল ও পেট্রল মিললেও অকটেন না থাকায় চালকেরা সমস্যায় পড়েছেন। সংকট সামাল দিতে পেট্রল সরবরাহেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কবে নাগাদ অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা উল্লেখ নেই। ডিপো থেকে নতুন চালান কবে পৌঁছাবে, সেটিও নিশ্চিত নয়।
সান্তাহার ও আদমদীঘি এলাকায় দৈনন্দিন যাতায়াত, ছোট পরিবহননির্ভর পেশা এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে চলাচলে এ সংকটের প্রভাব পড়তে পারে।
এই সংকট দেখাচ্ছে, ঈদ পরবর্তী বাড়তি চাহিদার সময়ে স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে সাধারণ চালকের ভোগান্তিই আগে সামনে আসে।
চারটি স্টেশনে একযোগে অকটেন শেষ হয়ে যাওয়া কেবল সরবরাহ-সংকটের খবর নয়, এটি স্থানীয় চাহিদা ব্যবস্থাপনারও একটি ইঙ্গিত। বিশেষত যেখানে ডিজেল ও পেট্রল স্বাভাবিক আছে, সেখানে শুধু অকটেনের ঘাটতি আলাদা করে নজর কাড়ে। এর মানে, চাহিদার ধরন ও সরবরাহ পরিকল্পনার মধ্যে ফাঁক থাকতে পারে।
তবে এই বিশ্লেষণের আরেকটি দিকও আছে। ফিলিং স্টেশন-সংশ্লিষ্টরা যে কারণ দেখিয়েছেন—ঈদকে কেন্দ্র করে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া—তা সাময়িকও হতে পারে। অর্থাৎ এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকট কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আরেকটি ঝুঁকি হলো, অকটেনচালিত যানবাহনে চালকেরা বাধ্য হয়ে পেট্রল ব্যবহার করছেন। ব্যবহারকারীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, এতে ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
জনস্বার্থের দিক থেকে মূল বিষয় হলো, সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এই দুটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখন সবচেয়ে জরুরি।
এমডি রহমান
ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com