২৪ মার্চ ২০২৬
preview
সান্তাহার পৌরসভা: রেলজংশনের শহরে সেবা, উন্নয়ন ও অভিযোগের খতিয়ান

MezDhoni

লেখক: এমডি রহমান

সান্তাহার জংশনে ট্রেন থামে—কেবল ইঞ্জিন–বগি নয়, থামে শহরের ছন্দও। এই ছন্দের ভেতরেই একটি ছোট শহরের বড় প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে:পৌরসেবার মান কি নাগরিকের ট্যাক্স–প্রত্যাশার সঙ্গে হাঁটে?২০২৫ সালের বর্ষার পানিতে যখন চা–বাগান সিভিল কলোনির ড্রেন হাঁটুজল হয়ে পড়ে, কিংবা সন্ধ্যায় বাতিহীন রাস্তা “ভুতুড়ে” লাগে—সেগুলো শুধু অভিজ্ঞতা নয়, নাগরিক–রাষ্ট্র সম্পর্কের একটি দৃশ্যমান দলিলও।

সান্তাহার পৌরসভা—নামে “ক” শ্রেণি হলেও নাগরিকের ভাষায় বহুদিন ধরে “সেবায় ক”–এর ঘাটতি। ২০২৫ সালে একাধিক সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়: ভাঙাচোরা অভ্যন্তরীণ সড়ক, অকেজো/ভাঙা ড্রেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্বল পানি সরবরাহ এবং উল্লেখযোগ্য অংশে অচল স্ট্রিটলাইট—এইগুলোই প্রধান “দৈনন্দিন ঘর্ষণ”।

গত দশকে সান্তাহার পৌরসভার অগ্রগতি সবচেয়েমাপা যায় তিনভাবে:
(ক)শ্রেণি উন্নীতকরণ(২০১৭ সালে “খ” থেকে “ক”)—কিন্তু শ্রেণি-উন্নীত মানেই সেবা-উন্নীত নয়, সেটাই নাগরিকদের অভিযোগের সারকথা।
(খ)বাজেটের বৃদ্ধি—২০২০–২১ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেট ২৫.৫০ কোটি টাকা থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৩৩.৬১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে (নামমাত্র হিসাবে ~৩১.৮% বৃদ্ধি; রাজস্ব আয়ও বেড়েছে)।
(গ)শাসন/প্রশাসন কাঠামো—২০২৪ সালের আগস্টে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর প্রশাসক-নির্ভরতায় (একই ব্যক্তি ইউএনও ও পৌর প্রশাসক) দৈনন্দিন নাগরিক সেবা (সার্টিফিকেট/ট্রেড লাইসেন্স/জন্ম নিবন্ধন) আরও মন্থর হয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার এসেছে।

তুলনায় (বগুড়া জেলার পৌরচিত্র): বগুড়া পৌরসভার বাজেট সান্তাহারের তুলনায় বহু গুণ বড় (২০২৪–২৫: ২৭১.১৫ কোটি টাকা), আর শেরপুর পৌরসভা একই অর্থবছরে ৮৩.৫৮ কোটি টাকার বাজেটের সঙ্গে বহুজাতিক প্রকল্প/অনুদানের (যেমন MGSP, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড) উল্লেখযোগ্য যোগ দেখায়। অর্থাৎ,“বাজেট–আকার” নয়, বরং “বাস্তবায়ন সক্ষমতা + প্রকল্প-অ্যাক্সেস + দৈনন্দিন অপারেশন”—এই তিনটি সান্তাহারের উন্নয়নকে ব্যাখ্যা করতে বেশি কার্যকর।

এ শহরের আরেক বাস্তবতা:সান্তাহার জংশন রেলওয়ে স্টেশন–কেন্দ্রিক জনচলাচল। ২০২৫–এ “৪০টির বেশি” যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচলের বর্ণনা যেমন আছে, তেমনি ২০২৬ সালের মার্চে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ২১ ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ থাকা—এই ট্রান্সপোর্ট শক শহরের অর্থনীতি–সেবা–জীবনযাত্রাকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দেয়।

পৌরসেবা-চিত্র

সান্তাহার পৌরসেবার গল্পটি একরৈখিক নয়—এটা “রেলজংশনের ব্যস্ততা বনাম পৌরসভার সক্ষমতা”র টানাপোড়েন। নিচের বিশ্লেষণটি মূলত ২০২৪–২০২৬ সময়ের রিপোর্টেড বাস্তবতা ধরে তৈরি, কারণ এই সময়েই ধারাবাহিক সরেজমিন প্রতিবেদন ও নাগরিক অভিযোগ দৃশ্যমান।

সেবামান—একটি প্রমাণ-ভিত্তিক স্কোরকার্ড (২০২৪–২০২৬)

সেবা-ক্ষেত্র
বর্তমান মানের সারসংক্ষেপ
“মাপা যায়” এমন ইঙ্গিত/প্রমাণ
প্রাথমিক উৎস
পানি (পৌর পানি/সরবরাহ)
দুর্বল/নাজুক
স্টেশন এলাকা সহ বিভিন্ন মহল্লায় পানি সাপ্লাই নাজুক—দীর্ঘদিন বলেও সমাধান হয়নি; প্রকৌশলীর ভাষায় টেন্ডার–জটিলতা।

স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ
উচ্চ ঝুঁকি (বর্ষায়)
ওয়ার্ডে ড্রেন অকেজো/ভাঙা; জলাবদ্ধতায় বাড়িঘর ও চলাচল–পথ পানির নিচে; লিখিত অভিযোগেও প্রতিকার না পাওয়ার বক্তব্য।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
দুর্বল
ডাস্টবিন অপরিষ্কার/অপর্যাপ্ত; কোথাও প্লাস্টিক ড্রামের ডাস্টবিন থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধ ও ছড়িয়ে পড়া বর্জ্য।

রাস্তা (অভ্যন্তরীণ)
দুর্বল থেকে মাঝারি (এলাকাভেদে)
বহু সড়ক খানাখন্দ; পিচ উঠে গর্ত; বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়ে।

স্ট্রিটলাইট
দুর্বল
রিপোর্টে ~৩০% বাতি নষ্ট; প্রয়োজনীয় বাল্ব ~২৭০০, মজুদ ~৮০০—সক্ষমতার ঘাটতি।

স্বাস্থ্য (পৌর স্বাস্থ্য–ঝুঁকি)
ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশগত স্বাস্থ্য
জলাবদ্ধতা থেকে ডেঙ্গু/রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা উল্লেখ; অন্ধকারে চুরি–ছিনতাই ঝুঁকির অভিযোগ।

শিক্ষা (পরিবেশ ও প্রবেশযোগ্যতা)
মিশ্র
২০১১ সালে উপজেলাভিত্তিক কিন্ডারগার্টেন/এনজিও স্কুলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা আছে—অর্থাৎ শিক্ষা-অবকাঠামো/প্রতিষ্ঠান উপস্থিত, কিন্তু পৌরসেবা দুর্বল হলে শিক্ষা-যাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে।

গণপরিবহন
শক্তিশালী কিন্তু ভঙ্গুর
রেলজংশন হিসেবে উচ্চ সংযোগ; তবে দুর্ঘটনায় ২১ ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ—ঝুঁকি ও ভোগান্তি।

ই-গভর্নেন্স/সেবা প্রাপ্তি
মন্থর/জটিল
ট্রেড লাইসেন্সে “টেকনিক্যাল জটিলতা”; প্রত্যয়ন/নাগরিকত্ব কাগজ পেতে দেরি; জন্ম নিবন্ধনে ৮ মাসের অভিযোগ; প্রশাসকের স্বাক্ষর–নির্ভরতায় বিলম্ব।

সেবা-অভিজ্ঞতার কিছু “মাইক্রো দৃশ্য”

১)ড্রেনেজ = শহরের শ্বাসপ্রশ্বাস।
ওয়ার্ড ৭–এ জলাবদ্ধতা নিয়ে ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়:১৭ মে থেকে টানা জলাবদ্ধতায়বাড়ি–রাস্তা–ড্রেন পানির নিচে; পানি নিষ্কাশনের ড্রেনই যখন পানির নিচে থাকে, তখন পুরো সিস্টেম “ব্লক” হয়ে যায়। আর এই ব্লকেজের ফলে নাগরিকরা তাদের করের বদলে পায় মশা, দুর্গন্ধ, রোগের ভয়।

২)আলো = নিরাপত্তা।
একাধিক প্রতিবেদনে “সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলে না”–র অভিযোগ শুধু অবকাঠামোগত নয়—এটা নিরাপত্তা অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত। প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী পুরো আলোকায়নের জন্য বাল্বের সংখ্যাগত ঘাটতি নিজেই একটি বাধা।

৩)দাপ্তরিক সেবা = সময় ও মর্যাদা।
যখন “পারিবারিক বার্ষিক আয়ের প্রত্যয়ন” এক মাসেও হাতে আসে না, বা জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ৮ মাসেও সম্পন্ন হয় না, তখন সেবার মান বিচার হয় নাগরিকের “সময়-ক্ষতি” দিয়ে। এই সময়-ক্ষতি শহরের অর্থনীতিরও ক্ষতি—কারণ ট্রেড লাইসেন্স আটকে গেলে ব্যবসা আটকে যায়।

উন্নয়নের গতি

সান্তাহারের উন্নয়নকে “কাজ হয়েছে/হয়নি”–র দ্বিচোখে দেখা কঠিন; বরং যে জায়গায় ডেটা পাওয়া যায় সেখানেট্রেন্ডআঁকতে হয়, আর যে জায়গায় ডেটা নেই সেখানেশুধু অনুমান নয়—ডেটা-ঘাটতিকে দৃশ্যমানকরতে হয়।

গত ৫–১০ বছরের পরিমাপযোগ্য সূচক

সূচক
সময়
মান/পরিমাণ
বিশ্লেষণ
পৌরসভার শ্রেণি
২০১৭
“খ” → “ক”
শ্রেণি উন্নীত হওয়া মানে রাজস্ব/সেবা সক্ষমতা বাড়ার প্রত্যাশা; কিন্তু পরের বছরগুলোতে অভিযোগের ধারাবাহিকতা দেখায়—শ্রেণি ও বাস্তব সেবার মধ্যে ফাঁক রয়ে গেছে।
বেতন বকেয়া (কর্মচারী)
২০১৮ (প্রতিবেদনভিত্তিক)
৫৫ মাস বকেয়া; বেতন-ভাতা বকেয়া ৮.৫০ কোটি টাকা (২০১৮–১৯ বাজেটভিত্তিক)
এটি পৌরসভার “অপারেশনাল সক্ষমতা”র একটি কঠিন সূচক: বেতন না হলে সেবা-প্রণোদনা কমে, অনিয়ম/অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঝুঁকি বাড়ে।
মোট বাজেট
২০২০–২১
২৫.৫০ কোটি টাকা
বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি ~১.৯৫ কোটি—অর্থাৎ আয়-ব্যয়ের ফাঁক রয়ে গেছে।
মোট বাজেট
২০২৪–২৫
৩৩.৬১ কোটি টাকা
২০২০–২১ থেকে ~৩১.৮% নামমাত্র বৃদ্ধি; রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। বাজেটে যানজট, রাস্তা-ড্রেন ইত্যাদি সমস্যা স্বীকার করে পরিকল্পনার কথা বলা হয়।
প্রশাসনিক কাঠামো
১৮ আগস্ট ২০২৪–পর
নির্বাচিত প্রতিনিধি অপসারণ; প্রশাসক নিয়োগ
প্রশাসক-নির্ভরতায় সেবা নিতে ভোগান্তির অভিযোগ তীব্র হয়েছে (স্বাক্ষর–বিলম্ব, অনলাইন জটিলতা ইত্যাদি)।
স্ট্রিটলাইট অপারেশনাল অবস্থা
২০২৫
~৩০% বাতি নষ্ট; প্রয়োজন ~২৭০০ বনাম মজুদ ~৮০০
এটাই “রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি”র সবচেয়ে সহজে মাপা যায় এমন সূচক।
পরিবহন শক (রেল)
মার্চ ২০২৬
৯ কোচ লাইনচ্যুত; ~২১ ঘণ্টা যোগাযোগ বন্ধ; ~১০০ আহত
শহরের অর্থনীতি ও যাত্রীসেবার ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে; পৌরসভা সরাসরি দায়ী না হলেও শহরের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব।
সান্তাহারের বাজেটবড় হয়েছে(২০২০–২১ → ২০২৪–২৫), রাজস্ব আয়ও বেড়েছে; কিন্তুসেবার মান(ড্রেনেজ, আলো, পানি, বর্জ্য, দাপ্তরিক প্রসেসিং) নিয়ে অভিযোগথেমে নেই। বাজেট বৃদ্ধি যদি সেবায় অনুবাদ না হয়, সাধারণত চার ধরনের বাধা কাজ করে:

(১) রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাকলগ (লাইট, ড্রেন), (২) প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা/জনবল, (৩) রাজস্ব সংগ্রহ বনাম ব্যয়ের ভারসাম্য, (৪) সিদ্ধান্ত–সাইনিং–ওয়ার্কফ্লো (প্রশাসক-কেন্দ্রিকতা)। এই চারটি বাধাই প্রতিবেদিত বাস্তবতার সঙ্গে মেলে।

প্রধান প্রকল্প ও অভিযোগের টাইমলাইন ঃ

টাইমলাইনের প্রতিটি ঘটনাই পৃথক উৎসে উল্লেখিত—শ্রেণি উন্নীতকরণ/প্রশাসক নিয়োগ ও সেবা–সমস্যা ২০২৫–এর সরেজমিন রিপোর্টে, বাজেট ঘোষণা ২০২০ ও ২০২৪–এর সংবাদে, হাটের টোল অভিযোগ ২০২৫–এর প্রতিবেদনে, এবং ২০২৬–এর রেলদুর্ঘটনা সরকারি সংবাদ সংস্থার খবরে।

বগুড়া জেলার পৌরসভাগুলোর সঙ্গে তুলনা


সূচক
সান্তাহার পৌরসভা
বগুড়া পৌরসভা
শেরপুর পৌরসভা (বগুড়া)
শিবগঞ্জ পৌরসভা (বগুড়া)
সাম্প্রতিক বাজেট (জানা গেছে)
৩৩.৬১ কোটি (২০২৪–২৫)
২৭১.১৫ কোটি (২০২৪–২৫)
৮৩.৫৮ কোটি (২০২৪–২৫)
১০.০৪ কোটি (২০১৬–১৭)
বাজেট-স্কেল বনাম সান্তাহার
১.০x
~৮.১x (২০২৪–২৫)
~২.৫x
(ডেটা পুরোনো)
প্রকল্প/অনুদান কাঠামোর দৃশ্যমানতা
বাজেটে উন্নয়ন প্রাপ্তি দেখানো হলেও প্রকল্প-ভিত্তিক ব্রেকডাউন সীমিত
বড় বাজেট; ওয়েবপোর্টালে বিভাগীয় কাঠামো/নোটিশ/সেবা মেনু দৃশ্যমান
MGSP, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড, COVID recovery ইত্যাদির নির্দিষ্ট অংক উল্লেখ
অফিসিয়াল ওয়েবপোর্টাল ৪০৩/অ্যাক্সেস সমস্যা (এই গবেষণায় বিশদ পাওয়া যায়নি)
সেবা–সমস্যার প্রধান থিম
ড্রেন–জলাবদ্ধতা, লাইট, পানি, দাপ্তরিক বিলম্ব
নগরমাত্রায় ড্রেন/বর্জ্য/ফুটপাত ইত্যাদি বৃহৎ স্কেলের পরিকল্পনা; তুলনামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দৃশ্যমান
বাজেটে নাগরিক সেবা ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি; প্রকল্প বাস্তবায়নের টেন্ডার প্রসঙ্গ
সাম্প্রতিক সেবা-মান নিয়ে পর্যাপ্ত যাচাইযোগ্য উন্মুক্ত উৎস সীমিত
প্রশাসনিক বাস্তবতা (২০২৪–২৫ সময়ে রিপোর্টেড)
প্রশাসক-নির্ভরতা; স্বাক্ষর/অনলাইন জটিলতায় বিলম্বের অভিযোগ
বড় প্রতিষ্ঠানের মতো বিভাগ ও ডিজিটাল মেনু দৃশ্যমান
জনপ্রতিনিধি/ভারপ্রাপ্ত মেয়রের বক্তব্যে প্রকল্প ও টেন্ডার সক্রিয়তার ইঙ্গিত
ডেটা-ঘাটতি
তুলনামূলক ব্যাখ্যা (নীতিগতভাবে):

২০২৪–২৫ অর্থবছরে সান্তাহারের বাজেট (৩৩.৬১ কোটি) বনাম বগুড়া (২৭১.১৫ কোটি) ব্যবধান বিশাল মনে হলেও, মাথাপিছু আনুমানিক হিসাব করলে ব্যবধান কমে আসতে পারে—কারণ বগুড়া নগরের জনসংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু সান্তাহারে সমস্যাটি “অর্থের ঘাটতি”র মতোই “রক্ষণাবেক্ষণ ও দাপ্তরিক সক্ষমতা”র। লাইটের বাল্ব-ঘাটতি, ড্রেন–পরিষ্কারের অনিয়মিততা, এবং প্রশাসক-কেন্দ্রিক স্বাক্ষর–বিলম্ব—এসবই “মাইক্রো-গভর্নেন্স” সমস্যা, যা বড় বাজেট পেলেও এমনিতেই ঠিক হয় না।

আর শেরপুরের ক্ষেত্রে ২০২৪–২৫ বাজেটে MGSPসহ একাধিক প্রকল্প তহবিলের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ আছে—এটি “প্রকল্প নেটওয়ার্কিং/অ্যাক্সেস” ও “বাজেট ডকুমেন্টেশনের স্বচ্ছতা”র ইঙ্গিত দেয়। সান্তাহারের বাজেট রিপোর্টে তুলনামূলকভাবে ব্যয়ের প্রকল্পভিত্তিক ব্রেকডাউন কম দৃশ্যমান—এটাও সক্ষমতার একটি নরম সূচক।

অভিযোগ, অসন্তোষ ও ‘ডিজিটাল’ প্রমাণ

সান্তাহার পৌরসভা নিয়ে অনলাইনে অভিযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী ধারাটি তৈরি হয়স্থানীয় সংবাদ-মাধ্যমের সরেজমিন রিপোর্ট, নাগরিক উদ্ধৃতি, এবং বাজেট/টেন্ডার–ঘিরে বিতর্কথেকে। নিচে “প্রতিনিধিত্বমূলক” কয়েকটি অভিযোগ—তারিখসহ।

সাম্প্রতিক অভিযোগের সংকলন

তারিখ
অভিযোগের ধরন
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
উৎস (অনলাইন)
২২ জুলাই ২০১৮
আর্থিক সংকট → সেবা ঝুঁকি
কর্মচারীদের ৫৫ মাস বেতন বকেয়া; বেতন–ঘাটতির ফলে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছ থেকে “বাড়তি টাকা” নেওয়ার প্রবণতার ঝুঁকির বর্ণনা

২৯ জুন ২০২০
বাজেট–ঘাটতি
২০২০–২১ বাজেটে রাজস্ব ঘাটতির উল্লেখ

২৭ জুন ২০২৪
বাজেট–প্রতিরোধ/প্রাধান্য
২০২৪–২৫ বাজেটে যানজট, রাস্তা সংস্কার, পানি নিষ্কাশন, ড্রেন নির্মাণকে আলোচনায় আনা

২৫ মে ২০২৫
হাট-বাজার টোল নিয়ে অভিযোগ
ইজারা না থাকায় “বিশেষ মহল” দ্বিগুণ হারে টোল আদায় করছে—লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর

৫ জুন ২০২৫
জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য
ওয়ার্ড ৭–এ জলাবদ্ধতা; অপরিষ্কার ডাস্টবিন; পূর্বে লিখিত অভিযোগ করেও লাভ হয়নি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাস্তা–ড্রেন–লাইট–সেবা বিলম্ব
স্ট্রিটলাইট না জ্বলা, ড্রেন নাজুক, নাগরিকত্ব কাগজ পেতে বারবার ঘোরা, জন্ম নিবন্ধনে দীর্ঘ বিলম্ব

২৯ অক্টোবর ২০২৫
সেবা-মান অবনতি
রিপোর্টে অভ্যন্তরীণ সড়ক ভাঙা, ড্রেনেজ অকেজো, ~৩০% বাতি নষ্ট, পানি সাপ্লাই নাজুক, ট্রেড লাইসেন্স/সার্টিফিকেটে হয়রানি

১৯ মার্চ ২০২৬
গণপরিবহন ভোগান্তি
নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত; ~২১ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ; যাত্রীর ভোগান্তির উল্লেখ

প্রতিনিধিত্বমূলক উদ্ধৃতি

“আমরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও পাচ্ছি না নুন্যতম সেবা।”

“এক মাস হলো… প্রত্যয়নপ্রত্র টি হাতে পাইনি।”

“সন্ধ্যা পর সড়কের অধিকাংশ বাতি জ্বলে না।”

“ইজারা ছাড়াই… দ্বিগুণ হারে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”

“খুব অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

“train movement resumed around 11:00 am…”


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com