২৬ মার্চ ২০২৬
preview
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলকে ইরানের পাঁচ শর্ত

NirobDhoni

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো সামনে আনা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২–এর প্রতিবেদনে ইরানি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ যেন ভবিষ্যতে আর শুরু না হয়—এমন শক্তিশালী নিশ্চয়তা চাইছে তেহরান।
এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আরেকটি শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে—এমন দাবি তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা কিছু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া বা তাদের বিচারের আওতায় আনার কথাও শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে।
এদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে অতিরিক্ত একটি শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুরো অঞ্চলে চলমান সব যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে; যার মধ্যে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা লড়াইও অন্তর্ভুক্ত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।
ইরানের পাঁচটি শর্ত
চ্যানেল ১২–এর প্রতিবেদনে ইরানি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে শর্তগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. ভবিষ্যতে যুদ্ধ আর শুরু হবে না—এমন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
২. পশ্চিম এশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে।
৩. চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দিতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আইনি ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে ওই এলাকা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫. ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা কিছু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া বা তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
অতিরিক্ত শর্তের দাবি
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে আরও একটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সব যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, যার মধ্যে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা লড়াইও রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য
টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কর্মদক্ষতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানের সামনে এখন আরেকটি সুযোগ রয়েছে।
মূল প্রশ্ন হলো—এই শর্তগুলো বাস্তবে আলোচনার টেবিলে কতটা কার্যকর হতে পারে।
ইরানের উত্থাপিত শর্তগুলোর বেশিরভাগই আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের মতো বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা বা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা তাদের প্রধান লক্ষ্য। ফলে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি হলে তা নিরাপত্তা ও পারমাণবিক কর্মসূচি—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই এগোতে পারে।
তবে পাল্টা যুক্তি হলো, যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত না কমে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানোই বিভিন্ন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—এমন মতও রয়েছে।


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com