২১ অক্টোবর ২০২৬
preview
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিলের পরিকল্পনায়—চিফ প্রসিকিউটর

NirobDhoni

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে যে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল, তা পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।
এর আগে একই দিনে সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ হাজির করা হয়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় গত বছরের ১৪ মে আবদুল জলিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বর–সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক ডিআইজি
২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতা, হতাহত ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে এখন পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলের ভূমিকার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ওই ঘটনার পরিকল্পনায় আবদুল জলিল মণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে অনুসন্ধান
শাপলা চত্বরের ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছেন—এ প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। প্রসিকিউশনের দাবি, তাঁদের হাতে থাকা প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ জনের মতো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
তবে তদন্ত কর্মকর্তারা এখনও খতিয়ে দেখছেন, এর বাইরে আরও কেউ নিহত হয়েছেন কি না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।
গ্রেপ্তার ও আদালতের আদেশ
মামলার প্রক্রিয়ায় গত বছরের ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবদুল জলিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পরবর্তীতে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অন্যান্য আসামি
এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৫ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

মূল প্রশ্ন এখন তদন্তের প্রমাণ কতটা শক্ত—এই মামলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে সেই প্রমাণের ওপর।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনার পরিকল্পনায় সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডলের ভূমিকা ছিল। যদি তদন্ত প্রতিবেদনে এ দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তবে মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও রয়েছে। ঘটনাটি বহু বছর আগের এবং নিহতের সংখ্যা নিয়েও এখনো পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ পায়নি। ফলে আদালতে সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর আইনি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে।


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com