২১ অক্টোবর ২০২৬
preview
রামেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিদেশি ওষুধ অনুদান

NirobDhoni

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিদেশি অনুদান হিসেবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওষুধ এসেছে। তিনটি চালানে আসা এসব ওষুধ রোগীদের বিনা মূল্যে দেওয়া শুরু হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান আজিজুল হক আজাদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট তিনটি চালানে আসা ওষুধের মূল্য ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে দুটি চালান ইতিমধ্যে রাজশাহীতে পৌঁছেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঢাকা থেকে তৃতীয় চালানটি রামেক হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সোমবার রাতে হাসপাতালের স্টোরে দেড় হাজার বক্স ডুপিলুম্যাব ও ১৫০ বক্স সারিলুম্যাব ইনজেকশন পৌঁছায়। এসব ওষুধ রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা, সিওপিডি, অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, আর্টিকারিয়া, পেমফিগাস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
আজিজুল হক জানান, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শামীম হায়দারের সহযোগিতায় দ্রুত অনুমোদন পাওয়ায় ওষুধগুলো দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ইতিমধ্যে এসব ওষুধ বিতরণ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, দামি এই ওষুধগুলো বিনা মূল্যে পেয়ে রোগীরা উপকৃত হবেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিদেশি ওষুধ অনুদান পাওয়া সাম্প্রতিক সময়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান আজিজুল হক আজাদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে এসব ওষুধ এসেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনটি চালানে মোট ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের ওষুধ দেশে এসেছে, যার বাংলাদেশি মুদ্রামান প্রায় ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দুটি চালান ইতিমধ্যে রামেক হাসপাতালে পৌঁছেছে এবং তৃতীয় চালানটি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সোমবার রাতে হাসপাতালের স্টোরে পৌঁছানো ওষুধের মধ্যে রয়েছে ডুপিলুম্যাব ও সারিলুম্যাব ইনজেকশন। এসব ওষুধ সাধারণত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যেমন—রিফ্র্যাক্টরি অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, আর্টিকারিয়া, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও জায়ান্ট সেল আর্টারাইটিস।
চিকিৎসক আজিজুল হক জানান, গত সপ্তাহে হাসপাতাল ফ্যাক্টর এইট এবং ডোসেট্যাক্সেল ইনজেকশনও পেয়েছে। ডোসেট্যাক্সেল ক্যানসারের কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।
এর আগেও একই সংস্থা থেকে রামেক হাসপাতালে উচ্চমূল্যের ওষুধ এসেছে। গত বছরের নভেম্বরে বাতের রোগীদের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ইনজেকশন আনা হয়। এর আগে আগস্টে হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় ১৭ কোটি টাকার অ্যাল্টেপ্লেস ওষুধ সংগ্রহ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান হিসেবে পাওয়া এসব ওষুধ ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রোগীদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

মূল বক্তব্য: বিদেশি মানবিক সংস্থার অনুদানে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত ওষুধ পাওয়া বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক সময় উচ্চমূল্যের বায়োলজিক বা বিশেষায়িত ওষুধের প্রাপ্যতা সীমিত থাকে। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলেও ওষুধের ব্যয় বহন করতে পারেন না। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা সেই সীমাবদ্ধতা আংশিকভাবে কমাতে পারে।
রামেক হাসপাতালে পাওয়া ডুপিলুম্যাব, সারিলুম্যাব বা কেমোথেরাপির ওষুধগুলোর দাম সাধারণ রোগীদের নাগালের বাইরে হতে পারে। অনুদানের মাধ্যমে এসব ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হলে রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বাড়ে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ধরনের ওষুধ সরবরাহ কি নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব, নাকি তা নির্ভর করবে অনুদানের ওপর। অনুদানভিত্তিক সরবরাহ ধারাবাহিক না হলে রোগীদের চিকিৎসা পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বয় কীভাবে টেকসই করা যায়—এটি ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে।


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com