MezDhoni
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি হামলার পর সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৩৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল কিংবা স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধাপে ধাপে সৌদিগামী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৫ অক্টোবর রিয়াদে এবং ২২ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২১ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে দেশটির বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে বুধবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা থেকে ১৩৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল কিংবা স্থগিত হয়েছে।
এর ফলে সৌদি আরবগামী এবং দেশটি থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকাশিত তথ্য থেকে এসব বিষয় জানা গেছে।
বেবিচক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬১টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যাতায়াতকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা এই পরিস্থিতির কারণে তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে।
সরাসরি ৬১টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের।
সংস্থাটির ২২টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
ট্রানজিট রুটে ৭৩টি ফ্লাইটে বিঘ্ন
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুটেও।
বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ২৮টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
এ ছাড়া সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামসহ নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের অনেকের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
হুতি হামলার পর বন্ধ হয়ে যায় রিয়াদগামী ফ্লাইট
চলতি অক্টোবরের প্রথম দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর দেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়।
হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ একাধিক দেশের নাগরিক নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদের বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও।
পরিস্থিতির কারণে গত ১০ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট বাতিল শুরু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পরবর্তী সময়ে দাম্মাম রুটেও ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে হয়।
অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল অথবা সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
২৫ অক্টোবর রিয়াদে আবার ফ্লাইট চালুর ঘোষণা
দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবার ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর রিয়াদগামী একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিমান জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে রিয়াদ রুটে সব ফ্লাইট এখনই স্বাভাবিক সময়সূচিতে চালু হচ্ছে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে বাকি ফ্লাইটগুলো পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দাম্মাম রুটে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ফ্লাইট
সৌদি আরবের দাম্মাম রুটেও ফ্লাইট পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে।
এই রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বিমান জানিয়েছে, যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা এবং সৌদি আরবের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।
জেদ্দা ও মদিনা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা
রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের পাশাপাশি জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইটের বিষয়েও হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে বিমান।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে মদিনাগামী ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল করছে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রুটের প্রচলিত সময়সূচি অপরিবর্তিত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
যাত্রীদের সর্বশেষ সময়সূচি যাচাইয়ের পরামর্শ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাইটের পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
যাত্রীদের টিকিট, বুকিং, পুনর্নির্ধারিত ভ্রমণ এবং ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য জানতে নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।
ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এমডি রহমান
ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com