২১ অক্টোবর ২০২৬
preview
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

MezDhoni

ড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা এই চালান বুধবার সকালে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী গাড়িবহরটি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা দ্বিতীয় জ্বালানি চালান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস।

তিনি জানান, রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী লরিগুলো সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা হবে।

ঢাকা থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময়ের যাত্রায় রূপপুরে জ্বালানির চালান

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বুধবার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর পাবনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার যাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাড়িবহরটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছায়।

বহরে তিনটি বিশেষ লরিতে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম বহন করা হয়। অপর একটি গাড়িতে ছিল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এ ছাড়া জ্বালানি পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম তদারকির জন্য রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরাও বহরে ছিলেন।

পুরো যাত্রাপথে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা

পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা নির্দেশনা ও পরিবহন নীতিমালা মেনেই পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির নিরাপদ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী কারিগরি কার্যক্রমেও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করা হবে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে আরও ইউরেনিয়ামের চালান আসবে

রূপপুর প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদা এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে রাশিয়া থেকে পর্যায়ক্রমে আরও পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় আরও নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির আরেকটি চালান রূপপুরে পৌঁছায়।

আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট জ্বালানির চালানগুলো দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করে।

দুটি ইউনিটে উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট প্রকল্পটির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর লক্ষ্যে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ইউরেনিয়াম চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি প্রস্তুতির কার্যক্রম আরও এগিয়েছে। এখন প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পরবর্তী কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করার দিকে নজর রয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।


এমডি রহমান

ফোন : +1 4647335595, ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com