দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র
© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
আপডেট :

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি—এমন দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর দাবি, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘মিথ্যার আশ্রয়’ নিচ্ছে।
আরেকটি পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসনকারীদের ‘পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ দিতে চায়। এ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে থেকে অবস্থান বজায় রাখবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে বার্তা এসেছে। জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে বলে জানান বাগাই।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের একজন নেতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা যাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতির দাবি করেছেন, অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি তা অস্বীকার করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান আগ্রাসনের জবাবে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধ বা হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ইস্যুতে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বন্ধু দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আগ্রহের বার্তা ইরান পেয়েছে। তবে ইরান সম্ভাব্য হামলার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘জোরালো আলোচনা’ হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একটি চুক্তি করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দাবি করছে। ইরান তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করছে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরাসরি আলোচনার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে পারস্পরিক বিরোধ কূটনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা নির্দেশ করছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব তা অস্বীকার করছে। এটি কখনও কখনও কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে—যেখানে আলোচনা চললেও প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করা হয়।
দ্বিতীয়ত, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোর বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে সরাসরি আলোচনা না হলেও পরোক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে এমন ‘ব্যাকচ্যানেল’ যোগাযোগ অস্বাভাবিক নয়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো—যদি দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে তা উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ভুল ব্যাখ্যা বা তথ্যগত বিভ্রান্তি কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।
জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে প্রকৃত আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও তার বাস্তব অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।