দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র
© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
আপডেট :

বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় দেশের ২০টি সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে শিশুখাদ্য সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে। অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে শিশুদের খাবার নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ‘২০টি শিশু দিবাযত্ন স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে ৯ মাস ধরে খাবার সরবরাহের বিল বকেয়া রয়েছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে। এ কারণে তারা বুধবার থেকে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকে অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত শিশুখাদ্য কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হবে না। তবে শিশুদের সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে ৬০ জন শিশুর আসন রয়েছে। চার মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এখানে রাখা হয়।
এদিকে সমস্যা সমাধানে বুধবার প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারী আশা প্রকাশ করেছেন, বৈঠকে সংকটের সমাধান হতে পারে। এর মধ্যে দুই দিন অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে শিশুদের খাবার পাঠাতে হবে।
সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র হঠাৎ করেই খাদ্যসংকটে পড়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রগুলোতে শিশুখাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
কী কারণে সংকট
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ‘২০টি শিশু দিবাযত্ন স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় এসব কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। পরে আরও এক বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
মেয়াদ বাড়ানোর পর খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। তবে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির ফেব্রুয়ারির সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদন পায়নি। ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সরবরাহ চালু রাখলেও প্রায় ৯ মাস ধরে বিল পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
কত টাকা বকেয়া
দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া বিল প্রায় সোয়া কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে ঢালী এন্টারপ্রাইজের প্রায় ৮৫–৯০ লাখ এবং তামান্না ট্রেডিং করপোরেশনের প্রায় ৩৮–৪০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে তাদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা
ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের দিবাযত্ন কেন্দ্রে সন্তানের অভিভাবকদের কাছে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার থেকে শিশুখাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তাই অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে শিশুদের খাবার দিয়ে পাঠাতে হবে।
এক অভিভাবক তানজিলা মোস্তাফিজ জানান, এত দিন কেন্দ্র থেকেই শিশুদের সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের নাশতা দেওয়া হতো। এখন হঠাৎ করে পুরো দিনের খাবার পাঠাতে হবে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। খাবার সংরক্ষণ ও গরম করে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও তাঁর কাছে অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।
কেন্দ্রগুলোর অবস্থান
২০টি দিবাযত্ন কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি ঢাকায় এবং ১০টি ঢাকার বাইরে অবস্থিত। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০ জন শিশুর জন্য আসন রয়েছে। মা–বাবার আয়ের ভিত্তিতে মাসিক সেবামূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে।
সামনে কী হতে পারে
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারী জানিয়েছেন, মন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মূল প্রশ্ন হলো—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অর্থ ছাড়ের বিলম্ব কীভাবে সরাসরি শিশুদের সেবা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও অর্থপ্রদানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সময়মতো হয়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় সেবা দিলেও বিল না পাওয়ার কারণে সরবরাহ বন্ধের পথে গেছে। এতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু দিবাযত্ন সেবার ওপর।
অন্যদিকে এসব কেন্দ্র মূলত কর্মজীবী মা–বাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। প্রতিদিনের নির্ধারিত খাদ্য ও সময়সূচির ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবার তাদের শিশুদের সেখানে রেখে কাজে যান। হঠাৎ করে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হলে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। যদি পিএসসি সভায় বিল পরিশোধ বা চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সংকট সাময়িক হতে পারে। অন্যদিকে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হলে দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত সেবাও চাপের মুখে পড়তে পারে।
জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখলে বোঝা যায়, শিশু দিবাযত্নের মতো সামাজিক সেবা প্রকল্পে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও অর্থপ্রবাহের স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।