দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র
© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
আপডেট :

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতের আসাম রাজ্যে বসবাস করেও পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন বহু মুসলমান। ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি নাগরিকত্ব যাচাই, ভূমি উচ্ছেদ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ভাষা-সংস্কৃতির স্বীকৃতি নিয়ে চলছে দীর্ঘ সংগ্রাম। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা এই জনগোষ্ঠীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নিজেদের জন্মভূমিতেই কীভাবে নিশ্চিত হবে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম। ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীবিধৌত এই ভূখণ্ডে শত শত বছর ধরে নানা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস। তাঁদের মধ্যে মুসলমানরা রাজ্যের ইতিহাস, কৃষি, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অথচ আসামের মুসলমানদের একটি বড় অংশকে আজও নিজেদের পরিচয় ও বসবাসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলমানদের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশি’ কিংবা ‘অবৈধ অভিবাসী’ পরিচয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আসামের মুসলমানদের এই সংকট কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঔপনিবেশিক ইতিহাস, দেশভাগ, ভাষাগত বিভাজন, নাগরিকত্ব আইন, ভূমির অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার জটিল সম্পর্ক।
আসামে ইসলামের আগমন ও মুসলিম সমাজের বিকাশ
আসামে ইসলামের ইতিহাস প্রায় আট শতাব্দী পুরোনো। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খলজির কামরূপ অভিমুখী অভিযানের সঙ্গে এই অঞ্চলে মুসলিম উপস্থিতির প্রাথমিক ইতিহাসের যোগসূত্র পাওয়া যায়।
১২০৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তিব্বত অভিমুখে অভিযানের সময় বখতিয়ার খলজি কামরূপ অঞ্চলে প্রবেশ করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় মেচ জনগোষ্ঠীর নেতা আলি মেচের ইসলাম গ্রহণ এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে বাংলা ও দিল্লির বিভিন্ন মুসলিম শাসক এবং মুঘল সেনাবাহিনী আসাম অঞ্চলে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে।
তবে আহোম শাসকেরা দীর্ঘ সময় নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ধরে রাখতে সক্ষম হন। ১৬৭১ সালের শরাইঘাটের যুদ্ধ এবং ১৬৮২ সালের ইতাখুলির যুদ্ধ আসামের ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সুফি সাধক, ব্যবসায়ী, কারিগর ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসামে মুসলিম সমাজ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে।
এর ফলে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
পাঁচ মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বীকৃতি
আসামের মুসলিম সমাজ ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক উৎসের দিক থেকে একরকম নয়।
২০২২ সালে আসাম সরকার গোরিয়া, মোরিয়া, দেশি, সৈয়দ ও জুলহা—এই পাঁচ জনগোষ্ঠীকে ‘খিলঞ্জিয়া’ বা স্থানীয় আসামি মুসলিম সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দেশি মুসলমানদের একটি অংশের পূর্বপুরুষ স্থানীয় কোচ-রাজবংশী ও মেচ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
গোরিয়া ও মোরিয়া জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে স্থানীয় ধর্মান্তরিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আসামে আগত সৈনিক, কারিগর ও অন্যান্য মানুষের অবদান রয়েছে।
সৈয়দ সম্প্রদায়ের ইতিহাসের সঙ্গে সুফি প্রচারক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে জুলহা জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরিচয় তাঁতশিল্প ও কারুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
সরকারের এই স্বীকৃতির উদ্দেশ্য হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয়, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছিল।
তবে বাংলাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে স্থানীয় আসামি মুসলমানদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করার নীতি নিয়েও রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে পূর্ববঙ্গ থেকে কৃষকদের অভিবাসন
আসামের মুসলমানদের একটি বড় অংশের পারিবারিক ইতিহাস যুক্ত রয়েছে অবিভক্ত বাংলার সঙ্গে।
ব্রিটিশ শাসনামলে কৃষি উৎপাদন ও রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকদের আসামে বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করা হয়।
বিশেষ করে ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু কৃষক পরিবার ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় গিয়ে বসতি গড়ে তোলে।
উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমার্ধে এই অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
নদীর চরাঞ্চল, জলাভূমি ও অনাবাদি জমিকে কৃষিকাজের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে এসব পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তাঁদের শ্রমে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং নতুন গ্রামীণ জনপদ গড়ে ওঠে।
কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পর আসাম ভারতের অংশ এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেলে অভিবাসন ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সীমান্ত অতিক্রম করে অভিবাসনের ঘটনাগুলোও আসামের রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ আমলে আগত কৃষকদের বংশধরদেরও অনেক সময় বিদেশি হিসেবে সন্দেহের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তবে ঐতিহাসিকভাবে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত মানুষের বংশধর হওয়া এবং বর্তমানে অবৈধ অভিবাসী হওয়া এক বিষয় নয়। নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও ব্যক্তির নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ।
বরাক উপত্যকার মুসলমান ও ভাষাগত পরিচয়
আসামের দক্ষিণাঞ্চলের বরাক উপত্যকার মুসলমানদের ইতিহাসও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কাছাড়, হাইলাকান্দি ও সাবেক করিমগঞ্জ—বর্তমানে শ্রীভূমি—জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাভাষী, বিশেষত সিলেটিভাষী মানুষের বসবাস।
ঐতিহাসিকভাবে বরাক উপত্যকার সঙ্গে সিলেট ও বৃহত্তর বাংলার ঘনিষ্ঠ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ ছিল।
১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে সিলেটকে আসাম প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেশভাগ ও সীমান্ত পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিচয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।
ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনেও বরাক উপত্যকার হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন।
১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচরে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে ১১ জন নিহত হন।
এই ঘটনা বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
স্থানীয় মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক নেতা, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষও ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
ফলে বরাক উপত্যকার মুসলমানদের ইতিহাসকে কেবল সীমান্তপারের অভিবাসনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখা যায় না; এর সঙ্গে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে।
আসামে মুসলমানের সংখ্যা এক কোটির বেশি
ভারতের ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, আসামের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ১২ লাখ।
এর মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৫ জন, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
আসামের ধুবড়ি, বরপেটা, গোয়ালপাড়া, নগাঁও, মরিগাঁও এবং বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। ২০২৬ সালেও রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও অনুমান প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব অনুমানকে সরকারি জনগণনার নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। নতুন জনগণনার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ২০১১ সালের পরিসংখ্যানই ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভিত্তি।
ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতির জীবন
আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের একটি বড় অংশ বসবাস করেন ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখানদীর চরাঞ্চলে।
নদীর বুকে জেগে ওঠা অস্থায়ী চরগুলোতে কৃষিকাজই তাঁদের প্রধান জীবিকা।
কিন্তু প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে ফেলে।
কোনো পরিবার একটি চরে বসতি গড়ে তুললেও কয়েক বছর পর নদীভাঙনে সেই জমি বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন তাদের অন্য এলাকায় গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হয়।
বারবার স্থান পরিবর্তনের ফলে জমির দলিল, বসবাসের রেকর্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
চরাঞ্চলের বহু পরিবার জীবিকার প্রয়োজনে গুয়াহাটি কিংবা আসামের অন্যান্য শহরে গিয়ে নির্মাণশ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী অথবা দিনমজুরের কাজ করেন।
কিন্তু সেখানে ভাষাগত পরিচয়ের কারণে তাঁদের একটি অংশ বৈষম্য ও সন্দেহের মুখোমুখি হন বলে বিভিন্ন গবেষণা ও মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে নাগরিকত্ব এবং সামাজিক পরিচয়ের সংকটও যুক্ত হয়েছে।
দারিদ্র্য ও শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা
আসামের চরাঞ্চলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামে শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, নিয়মিত বন্যা, যাতায়াতের সমস্যা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন।
নদীভাঙনের কারণে কোনো এলাকায় বিদ্যালয় স্থানান্তরিত হলে কিংবা শিক্ষার্থীর পরিবার বাস্তুচ্যুত হলে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের একটি অংশ অল্প বয়স থেকেই কৃষিকাজ বা অন্য উপার্জনমূলক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়।
শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ার প্রভাব শুধু কর্মসংস্থানেই নয়, নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও পড়ে।
পুরোনো ভোটার তালিকা, জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ের সনদ ও পূর্বপুরুষের পরিচয়সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করতে না পারা অনেক পরিবারের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পঞ্জি: পরিচয় প্রমাণের দীর্ঘ সংগ্রাম
আসামের মুসলমানদের জীবনসংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)।
দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট আসামে হালনাগাদ এনআরসির তালিকা প্রকাশিত হয়।
সেই তালিকার জন্য আবেদন করেছিলেন মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১ জন।
তাঁদের মধ্যে ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও বাদ পড়েন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন।
এনআরসি থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন।
তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করা নয়; নাগরিকত্বের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সুযোগ রয়েছে।
তবে দরিদ্র, অল্পশিক্ষিত এবং বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও আইনি লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে যেসব পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করলেও পূর্বপুরুষের প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করতে পারেনি, তাদের জন্য নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিতর্ক
এনআরসির পাশাপাশি ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) আসামের নাগরিকত্ব বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০১৯ সালে প্রণীত এই আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট শর্তপূরণকারী হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টানদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
তবে মুসলমানরা এই বিশেষ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত নন।
ভারত সরকারের বক্তব্য হলো, আইনটি নির্দিষ্ট তিন দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং এটি কোনো ভারতীয় নাগরিকের বিদ্যমান নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় না।
অন্যদিকে সমালোচক ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রশ্ন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব অর্জনের বিশেষ সুযোগের মধ্যে এই পার্থক্য বৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি করে কি না।
এনআরসি ও সিএএর সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক চলছে।
উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত
নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ভূমি উচ্ছেদও আসামের বহু মুসলিম পরিবারের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।
২০২১ সালে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি ও সংরক্ষিত বনভূমি থেকে বসতি উচ্ছেদের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি ও বনভূমি পুনরুদ্ধার করা।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলো পর্যাপ্ত পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছে না।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে গোয়ালপাড়া জেলার পাইকান সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ১২ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পরিবার গৃহহীন হয়, যাদের অধিকাংশই মুসলমান।
একই বছর গোলাঘাট জেলার রেংমা সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে অন্তত দুই হাজার পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে মানবাধিকার প্রতিবেদনে।
সরকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ভূমির আইনগত অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পুনর্বাসন, বসবাসের অধিকার এবং মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।
যেসব মানুষ নদীভাঙনে জমি হারিয়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের একটি অংশ নতুন করে উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছেন।
ফলে ভূমির মালিকানা ও বসবাসের বৈধতা নির্ধারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ
আসামের মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
২০২৩ সালে রাজ্যের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এই প্রক্রিয়ার ফলে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যাধিক্য থাকা কয়েকটি নির্বাচনী এলাকার বিন্যাসে পরিবর্তন আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, নতুন সীমানা বিন্যাসে সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাবশালী কিছু নির্বাচনী এলাকার সংখ্যা কমেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরেও এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আসামের মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নটি নাগরিকত্ব ও সামাজিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
ধর্মীয় পরিচয় ও পারিবারিক আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক
আসামে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজ্য বিধানসভায় বহুবিবাহ নিষিদ্ধসংক্রান্ত বিল পাস হয়। এতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
বিলের আওতা থেকে তফসিলি উপজাতির সদস্য এবং ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাকে বাদ রাখা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, নারীর অধিকার রক্ষা এবং বহুবিবাহের প্রথা বন্ধ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ আইনটির প্রয়োগ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই বিতর্ক আসামে ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক সংস্কার ও সমান আইনি সুরক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
‘মিয়া’ পরিচয় ও কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ
আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘মিয়া’ সাহিত্য ও কবিতা।
‘মিয়া’ শব্দটি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সম্মানসূচক অর্থে ব্যবহৃত হলেও আসামের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশে কখনো কখনো অবমাননাকর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে একদল কবি ও সাহিত্যিক সেই পরিচয়কেই আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
মিয়া কবিতার ঐতিহাসিক সূত্রের আলোচনায় ১৯৩৯ সালে মাওলানা বান্দে আলীর লেখা ‘এক চরুয়ার প্রস্তাব’ এবং ১৯৮৫ সালে খবির আহমেদের রচনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
আধুনিক মিয়া কবিতা আন্দোলন বিশেষভাবে পরিচিতি পায় ২০১৬ সালে হাফিজ আহমেদের ‘রাইট ডাউন আই অ্যাম আ মিয়া’ কবিতার মাধ্যমে।
এই ধারার কবিতায় নাগরিকত্ব সংকট, নদীভাঙন, কৃষিজীবন, দারিদ্র্য, সামাজিক অবজ্ঞা এবং আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
২০১৯ সালে কয়েকজন মিয়া কবির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার ঘটনাও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
নেলি গণহত্যার স্মৃতি
আসামের মুসলমানদের ইতিহাসে ১৯৮৩ সালের নেলি গণহত্যা একটি গভীর বেদনাদায়ক অধ্যায়।
১৮ ফেব্রুয়ারি আসামের নেলি ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলমান।
এই ঘটনার স্মৃতি আসামের জাতিগত ও ধর্মীয় সম্পর্কের ইতিহাসে আজও গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী সময়ে মিয়া কবিতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নেলির সহিংসতা, নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বারবার উঠে এসেছে।
মিয়া জাদুঘর নিয়েও বিতর্ক
আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবেই ২০২২ সালে আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় একটি ‘মিয়া মিউজিয়াম’ স্থাপন করা হয়।
সেখানে কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়েছিল।
তবে উদ্বোধনের অল্প সময় পরই প্রশাসন জাদুঘরটি সিলগালা করে দেয়।
প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া একটি বাড়ি অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের কাছে এটি ছিল নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি প্রচেষ্টা।
ঘটনাটি আসামে সাংস্কৃতিক পরিচয়, সরকারি বিধি এবং জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ইতিহাস তুলে ধরার অধিকার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে মুসলিমদের অবদান
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আসামের মুসলমানরা শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং বিভিন্ন পেশায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন।
বরাক উপত্যকা ও নিম্ন আসামের বিভিন্ন এলাকায় বাংলা, সিলেটি ও অসমীয়া ভাষায় সাহিত্যচর্চা, লোকসংগীত এবং পুঁথি সাহিত্যের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
মারফতি, মুর্শিদি, জারি ও জিকির সংগীতের মতো বিভিন্ন লোকজ ধারায় স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মুসলিম সমাজের সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।
শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে আসামের করিমগঞ্জের সন্তান শিক্ষাবিদ মাহবুবুল হকের উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।
তিনি মেঘালয়ের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিএম) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে।
এসব উদ্যোগ দেখায়, আসামের মুসলমানদের ইতিহাস কেবল সংকট ও বঞ্চনার নয়; শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে সামনে যে প্রশ্নগুলো
আসামের মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে ইতিহাস, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অভিবাসনসংক্রান্ত উদ্বেগকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
অসমীয়া ভাষা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও পরিচয় সংরক্ষণের দাবি আসামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একই সঙ্গে বহু প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী নাগরিকদের আইনি অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভাষাগত পরিচয় এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার বিষয়ও সমান গুরুত্ব বহন করে।
আসামের এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন নাগরিকত্ব নির্ধারণে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা, উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন, চরাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সব জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা।
বিশেষ করে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের নথিপত্রের সমস্যা ও ভূমি হারানোর বাস্তবতাকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
আসামের ইতিহাসে মুসলমানরা কখনো কৃষক, কখনো কারিগর, কখনো ব্যবসায়ী, কখনো শিক্ষাবিদ কিংবা সাহিত্যিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আজও তাঁরা আসামের কৃষি, অর্থনীতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অংশ।
তাই তাঁদের জীবনসংগ্রামের মূল প্রশ্ন কেবল অতীতের অভিবাসন নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের নাগরিক অধিকার, নিরাপদ বসবাস, সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের সুযোগ নিশ্চিত করা।
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন যেমন প্রতিনিয়ত বদলে দেয় আসামের ভূগোল, তেমনি নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্ক বদলে দিচ্ছে সেখানকার বহু মানুষের জীবন। এই দীর্ঘ সংগ্রামের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রত্যাশা—নিজের দেশে নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।