আপডেট :

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দিয়ে তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটি পানির ওপরে তোলা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন শিশু, ১০ জন নারী ও চারজন পুরুষ রয়েছেন। এর আগে আহত অবস্থায় দুইজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ জনে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান রাত ১২টা ৫০ মিনিটে প্রথমে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় উদ্ধার সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি জানানো হয়।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
ফেরিঘাটে অপেক্ষা থেকে দুর্ঘটনা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বুধবার বিকেলে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
প্রাথমিকভাবে বাস ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। পথে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট কাউন্টার মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী থাকতে পারে।
উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে বাসটিকে শনাক্ত করে টেনে তুলতে সক্ষম হয়। রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ পানির ওপরে দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে ১১টার দিকে ক্রেন ব্যবহার করে পুরো বাসটি তোলা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বাসের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন শিশু, ১০ জন নারী এবং চারজন পুরুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ঘটনার সময় বাসে ওঠা এক যাত্রী আবদুস সালাম জানান, তিনি ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসে উঠেছিলেন। তবে ফেরি আসতে দেরি হওয়ায় তিনি বাস থেকে নেমে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি জানান, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সড়কে বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। ফেরি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বাসটি সামনে এগিয়ে গিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও গাড়িটি থামাতে পারেননি।
তদন্তের উদ্যোগ
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
এই দুর্ঘটনা ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
দৌলতদিয়া ঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত নদী পারাপার কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পন্টুন এলাকায় যানবাহনের অবস্থান, ব্রেকিং নিরাপত্তা, সিগন্যালিং এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। এটি চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি ঘাট ব্যবস্থাপনার কোনো সীমাবদ্ধতা—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার হবে না।
অন্যদিকে, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং বাসটি তুলতে বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ ব্যবহারের বিষয়টি নদীপথে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর।
দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র
© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।