দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।
২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র
© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
আপডেট :

টিকার গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।
কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনে অবদান রাখার জন্য অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি পাচ্ছেন ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’। অন্যদিকে টাইফয়েড টিকা কর্মসূচিতে অবদানের জন্য ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন সেঁজুতি সাহা।
সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন সেঁজুতি সাহা। এই কর্মসূচি লাখো শিশুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করছে।
অন্যদিকে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে ক্যানসার গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর টিকা তৈরি করেন উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি। তাঁদের সেই উদ্যোগ কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে এক অনুষ্ঠানে এই তিন বিজ্ঞানীর হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি অনলাইনেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
টিকা গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে টিকা গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য খাতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।
সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড প্রতিরোধে বড় আকারের টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্লেষণ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেঁজুতি সাহা। জিনতত্ত্বভিত্তিক গবেষণা ব্যবহার করে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন।
বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে ভূমিকা
সেঁজুতি সাহা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে একটি উন্নত জিনোম গবেষণাগার গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গবেষণাগারে হাজার হাজার রোগজীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। এসব গবেষণা দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং ক্লেবসিয়েলা ও আরএসভির মতো রোগের সম্ভাব্য টিকা উন্নয়নে সহায়তা করছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি দেশের নতুন প্রজন্মের গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজেও যুক্ত রয়েছেন।
কোভিড-১৯ টিকার পেছনের বিজ্ঞান
অন্যদিকে ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁরা এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত টিকা তৈরি করেন, যা মূলত ক্যানসার চিকিৎসা গবেষণার জন্য উন্নয়ন করা হচ্ছিল।
তাঁদের প্রতিষ্ঠানের গবেষণা লক্ষ্য দ্রুত পরিবর্তন করে সেই প্রযুক্তি দিয়ে কার্যকর টিকা তৈরি করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের বিরুদ্ধে নতুন টিকা উন্নয়নের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান
সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সাল থেকে অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল এবং ২০২০ সাল থেকে রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
এ বছরের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগামী ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে অনুষ্ঠিত হবে এবং অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে।
টিকা গবেষণা ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডস সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
সেঁজুতি সাহার স্বীকৃতি দেখায় যে উন্নয়নশীল দেশ থেকেও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। বিশেষ করে বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্যভিত্তিক গবেষণা কতটা প্রয়োজন, তাঁর কাজ সেটির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
অন্যদিকে উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজির কাজ প্রমাণ করেছে যে গবেষণাগারের প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে আসা গেলে জনস্বাস্থ্য সংকটে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। কোভিড-১৯ টিকা উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা সেই উদাহরণ।
তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—উন্নত প্রযুক্তি ও টিকার সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। গবেষণা যতই এগোক, তা যদি সব দেশের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে না পারে, তবে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সীমিত হয়ে যেতে পারে।