ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ইঙ্গিত: ইসরায়েলে বাড়ছে হতাশা ও বিভ্রান্তি

Facebook
Twitter
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ইঙ্গিত: ইসরায়েলে বাড়ছে হতাশা ও বিভ্রান্তি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে হতাশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য বড় হামলার হুমকি এবং তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার খবর অস্বীকারের মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে আসে।
পুরো যুদ্ধজুড়ে ইসরায়েলি নেতারা বলে আসছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারাই সম্মুখভাগে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানের তৈরি ‘অস্তিত্বের সংকট’ মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
সোমবার ট্রাম্পের মন্তব্যের পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, যা দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষা করবে।
তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে আলোচনার সম্ভাবনা সামনে আসায় ইসরায়েলের অনেক মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


আলোচনার ইঙ্গিত, কিন্তু বাস্তবতা অনিশ্চিত
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত এবং তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধের শেষ কোথায়।
নেতানিয়াহুর অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে তিনি সফল হয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে একটি কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
ইসরায়েলের ভেতরের প্রত্যাশা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের অনেক নাগরিকের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সংঘাতের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে বা পতনের মুখে পড়বে।
কিন্তু ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে। বরং সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইসরায়েলের ভেতরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনেককে অস্বস্তিতে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মত
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওরি গোল্ডবার্গের মতে, আলোচনার বিষয়ে আগে থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়েছে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়ানোর যে চেষ্টা ইসরায়েল করছিল, তার এক ধরনের প্রত্যাখ্যান হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিনকাসের মতে, ট্রাম্প যদি নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও আলোচনার পথে এগিয়ে যান, তাহলে সেটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে তিনি যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের দেওয়া কিছু মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনা করছেন।
কূটনৈতিক বাস্তবতা
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েল সামরিকভাবে কিছু অর্জন করলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথে তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
বার্লিনভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্ল্যাশেনবার্গ বলেন, যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এমন প্রত্যাশা সব সময় ছিল না। তাঁর মতে, ইসরায়েল এখন মূলত সামরিক কৌশলেই বেশি জোর দিচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্ভাব্য আলোচনা ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণ করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত কমানোর পথে এগোয়, তাহলে ইসরায়েলের পরিকল্পনা আংশিকভাবে বদলে যেতে পারে।
একদিকে ইসরায়েল দাবি করছে যে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে যুদ্ধের রাজনৈতিক লক্ষ্য—যেমন ইরানের সরকার পরিবর্তন—বাস্তবে অর্জনযোগ্য কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, যদি যুদ্ধের লক্ষ্য কেবল ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা হয়ে থাকে, তাহলে ইসরায়েল আংশিকভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে বলে দাবি করতে পারে।
সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকা ও ইসরায়েলের কৌশলগত নির্ভরতার প্রশ্নকে আবার সামনে এনে দিয়েছে।

Total Views:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

1

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

2

দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: উদ্ধারকারী জাহাজে তোলা হলো বাস, ১৮ জনের মৃত্যু

3

খোকা তালুকদার স্মরণে ছাতিয়ানগ্রামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

4

বগুড়া–৬ উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে সাইবার দলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন কমিটি ঘোষণা

5

সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানিত তিন বিজ্ঞানী, বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহাও স্বীকৃত

6

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলকে ইরানের পাঁচ শর্ত

7

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক বুধবার

8

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ইঙ্গিত: ইসরায়েলে বাড়ছে হতাশা ও বিভ্রান্তি

9

অভিষেকেই সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল

10

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই আসামিকে এনআইএ দিল্লিতে নিয়ে গেল


দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪ একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।

  • গোপনীয়তার নীতি
  • শর্তাবলি
  • মন্তব্য প্রকাশের নীতিমালা
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • ছুটির তালিকা
  • দিবস

এমডি রহমান

২৯০৭ এডিসন অ্যাভিনিউ, ব্লু আইল্যান্ড, ইলিনয় ৬০৪০৬, যুক্তরাষ্ট্র

  • ফোন : +1 4647335595
  • ফ্যাক্স :
  • ই-মেইল: protidhoni24@gmail.com
  • বিজ্ঞাপন বিভাগ:

logo

সোশ্যাল মিডিয়া

logologologologologo
logo

নিউজলেটার

মোবাইল অ্যাপস

অ্যান্ড্রয়েড

আইফোন

© ২০২৫ দৈনিক প্রতিধ্বনি ২৪। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।